চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অপরাধে মো. গোলাম কবির (৫৪) নামের এক শিক্ষককে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম কবির শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর কাঁঠালিয়াপাড়া এলাকার মৃত তাজেবুল হকের ছেলে। তিনি ছত্রাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক ও স্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ আগস্ট জীববিজ্ঞানের বই নেওয়ার জন্য ওই শিক্ষককের কাছে গিয়েছিল বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। এ সময় শিক্ষক গোলাম কবির তাকে ২৩ আগস্ট বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিদ্যালয়ে আসার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে গেলে ছাত্রীটিকে শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের একটি কক্ষে নিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন ওই শিক্ষক। এরপর তাকে অনৈতিক প্রস্তাব ও ধর্ষণের চেষ্টা চালান তিনি।
স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি টের পেয়ে কক্ষটির বাইরে জড়ো হন। গ্লাস ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালালে ভয়ে বাথরুমে আশ্রয় নেয় ওই ছাত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষক গোলাম কবিরকে আটক করে।ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীর পক্ষ থেকে শিবগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০-এর ১০ ধারায় গোলাম কবিরকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত আজ এই রায় দেন।মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. আব্দুস সালাম এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. নাজমুল আজম। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুস সালাম বলেন, “একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই রায়ের মাধ্যমে সঠিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধে এটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”



