গাইবান্ধার ‘এক টাকার শিক্ষক’ হিসেবে পরিচিত লুৎফুর রহমানকে দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদানে বিশেষ অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিয়েছে সরকার।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লুৎফুর রহমানের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সাল থেকে লুৎফুর রহমান সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়িয়ে আসছেন। অর্থের অভাবে যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকে, তাদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়াই ছিল তার দীর্ঘদিনের কাজ। মাত্র এক টাকার বিনিময়ে শিশুদের পড়ানোর এই উদ্যোগের কারণে গাইবান্ধায় তিনি ‘এক টাকার শিক্ষক’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন না করেও দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন লুৎফুর রহমান। তার কাছে পড়াশোনা করেছে বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থী। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এক টাকার বিনিময়ে শিক্ষাদানের উদ্যোগটি সময়ের সঙ্গে স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকা শিশুদের মূলধারায় যুক্ত করার একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে লুৎফুর রহমানকে বিশেষ ক্যাটাগরিতে তার দীর্ঘদিনের শিক্ষাসেবার স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়। তার পাশাপাশি ‘রমনী কান্ত পাঠশালা’র রমনী কান্ত বেপারী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষায় কাজ করা প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশনের সহকারী শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হোসেন খানকেও বিশেষ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
এবার বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা, কৃষি, প্রকৌশল ও অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত শিক্ষকরাও সম্মাননার তালিকায় ছিলেন।
শিক্ষকদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পৃথক বিচারক ও সার্চ কমিটি যুক্ত ছিল। এসব কমিটির যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের গুণী শিক্ষকদের নির্বাচন করা হয়।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।



