আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক ও পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি এবং এবাদত হোসেনের চার উইকেটের সুবাদে আফগানিস্তানকে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে অলআউট করেছে টাইগাররা। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে লাঞ্চ বিরতির আগে ২ উইকেটে ৪৪ রান সংগ্রহ করেছে। এতে সব মিলিয়ে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫০ রানে।
টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থবারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন হাসান মাহমুদ। দুর্দান্ত বোলিংয়ে আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামানোর পাশাপাশি হ্যাটট্রিক করে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে এই কীর্তি গড়া তৃতীয় বোলার হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করা প্রথম পেসারও এখন হাসান।
রোববার (১১ অক্টোবর) একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৯টি উইকেট ভাগাভাগি করে নেন হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেন। এবাদত ৫৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। দিনের শুরুতেই ইকরাম আলিখিলকে ফিরিয়ে রহমত শাহর সঙ্গে তার ৮০ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি ভেঙে দেন এই পেসার। এরপর অন্য প্রান্ত থেকে আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান হাসান।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৪ উইকেটে ১৩৯ রান নিয়ে চাপে ছিল আফগানিস্তান। সেখান থেকে রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখিলের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছিল দলটি। তৃতীয় দিনের সকালে বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে লিড নেওয়ার লক্ষ্য ছিল তাদের। তবে এবাদত ও হাসানের পেস আক্রমণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। শেষদিকে এক প্রান্তে অপরাজিত থাকা রহমত শাহকে সতীর্থদের একের পর এক বিদায় দেখতে হয়।
ইকরাম আলিখিলকে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন এবাদত। পরের ওভারেই ইতিহাস গড়েন হাসান মাহমুদ। তার ভেতরে ঢোকা নিচু বল ইসমত আলমের স্টাম্পে আঘাত করে। পরের বলটি কাইস আহমেদের ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে।
হ্যাটট্রিক পূর্ণ করতে জিয়া-উর-রহমানকে দারুণ এক বলে ফাঁদে ফেলেন হাসান। সামনের পায়ে ভর দিয়ে বলটি খেলতে চাইলেও তা মিস করেন জিয়া। বলটি তার পেছনের প্যাডে আঘাত করে। টিভি আম্পায়ার তিনটি লাল সংকেত দেওয়ার পরই হ্যাটট্রিকের উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ দল।
এর আগে, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন তানজিদ হাসান। ইয়ামিন আহমেদজাইয়ের এক ওভারে টানা তিনটি চার মারেন তিনি। ওই ওভারে বাংলাদেশ পায় ১৭ রান। তবে পরের ওভারেই সেলিমের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শাদমান ইসলাম।
এরপর বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি মুমিনুল হকও। লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে ইয়ামিন আহমেদজাইয়ের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। দুর্দান্ত ক্যাচটি নেন সেদিকউল্লাহ আতাল। অন্যদিকে ১৮ রানে ব্যাট করতে থাকা তানজিদ হাসানের নিজের বোলিংয়ে সহজ ক্যাচ ছাড়েন ইয়ামিন আহমেদজাই।
লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৪৪ রান। প্রথম ইনিংসে পাওয়া ১০৬ রানের ভিত্তিতে দ্বিতীয় ইনিংসের এই সংগ্রহ যোগ করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের মোট লিড দাঁড়ায় ১৫০ রানে।



