নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে করা মামলায় শহিদুল হাকিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফকিরাপুলের একটি ভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভুক্তভোগী জেবুন্নেসার করা মামলায় শহিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এল ব্লকের ৮৪ নম্বর সড়কের ১৫৮১ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাটে শহিদুল হাকিম চৌধুরী, শিপন চৌধুরীসহ অন্যরা দলবল নিয়ে হামলা চালান। এ সময় তাঁরা ফ্ল্যাটে ভাঙচুর ও মালামাল লুট করেন।
ফ্ল্যাটের মালিক আবু বকর পেশায় অটোমোবাইল প্রকৌশলী ও অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী। প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে স্ত্রী জেবুন্নেসাকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন। নিজের ভগ্নিপতি শহিদুলের সঙ্গে যৌথভাবে তিন কাঠা জমি কিনে সাততলা ভবনটি নির্মাণ করেন তিনি।
জেবুন্নেসার অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁকে ও তাঁর দুই মাস বয়সী সন্তানকে আঘাত করে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেন। এ সময় ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ এক লাখ টাকাসহ মালামাল লুট করা হয়। এ ঘটনায় ২৭ অক্টোবর সাতজনকে আসামি করে ভাটারা থানায় মামলা করেন তিনি।
জেবুন্নেসার বড় ভাই মিন্টুর অভিযোগ, তিন দফা হামলা চালিয়ে ফ্ল্যাটটি তছনছ করা হয়েছে। ঘটনার পর তাঁর বোন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেও তাৎক্ষণিক প্রতিকার পাননি। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে হামলাকারীরা দরজা–জানালা ও আসবাব পর্যন্ত খুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একই ভবনে আবু বকরের আরেকটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া জেনিফার সিদ্দিকী বলেন, প্রথম দফায় ২০ অক্টোবর নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে হামলা হয়। পরে ২৪ অক্টোবর রাতে আবার হামলা চালিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খুলে নেওয়া হয়। বাথরুমের বেসিন ও কমোডও ভাঙচুর করা হয়।
জেনিফার বলেন, গভীর রাতে ট্রাকে করে ফ্ল্যাটের আসবাবসহ মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাঁরা মালিককে খবর দেন। পরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিরাপত্তাকর্মীরা মালামাল সরিয়ে নিতে বাধা দেন। খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে পুলিশ আসে।
ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সরওয়ার ওয়াদুদ বলেন, ‘প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’



