ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে দুই প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দলের বিরুদ্ধে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, দামি মোবাইল ফোনসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাত দলটি প্রথমে প্রবাসী রমজান মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে। নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে ঘরে ঢোকার পর তারা শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাড়িতে তাণ্ডব চালায়। এ সময় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় তারা। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
রমজান মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির পর দলটি পাশের আরেক প্রবাসী উসমান মিয়ার বাড়িতে যায়। সেখানে তারা ঘরের দরজায় আঘাত করতে থাকে। এ সময় উসমান মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগম চিৎকার করলে বাইরে থেকে ডাকাত দলের সদস্যরা তাঁকে হুমকি দেয়। চেঁচামেচি করলে ঘরে ঢুকে তাঁকে দেখে নেওয়া হবে বলে ভয় দেখানো হয়।
ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, একপর্যায়ে ডাকাতেরা শাবল ঢুকিয়ে বাড়ির দরজা ভেঙে ফেলে। এরপর দলের সাত থেকে আটজন ঘরে প্রবেশ করে। অন্য সদস্যরা বাইরে অবস্থান করছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তারা ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, দামি মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এ বাড়ি থেকে লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার বিষয়ে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ কাজ করছে। সকালে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ডিবি ও কসবা থানা পুলিশ যৌথভাবে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে। দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, ডাকাতির বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কসবা থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও আরও জানান, রাতে যেসব এলাকায় ডাকাতির প্রবণতা বেশি, সেসব এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



