পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আশুলিয়ায় বিথী হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি, সীমান্ত এলাকা থেকে স্বামী গ্রেপ্তার

ঢাকার আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিক বিথী আক্তার (২২) হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং তাঁর স্বামী মো. মজনু রাজাকে (৩৯) গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির ঢাকা জেলা ইউনিট জানিয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর মজনু রাজা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে বিথী আক্তারকে ডাকতে গিয়ে তাঁর মা মোছা. মেরিনা বেগম ভাড়া বাসার একটি কক্ষের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে কক্ষের ভেতরে গিয়ে খাটের ওপর মেয়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিথীর গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল।

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. বাদশা মিয়া বাদী হয়ে বিথীর স্বামী মজনু রাজাকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ৭৭ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। ঘটনার পর থেকে মজনু রাজা পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

সংস্থাটি জানায়, মামলাটি তাদের তফসিলভুক্ত হওয়ায় ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পিবিআই ঢাকা জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তের দায়িত্ব নেয়। উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) জুনায়েদ হোসেনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। এর পাশাপাশি পিবিআইয়ের ঢাকা জেলা ইউনিট ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল, বিপিএম-সেবা-এর সার্বিক নির্দেশনা এবং ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ, পিপিএম-সেবা-এর তত্ত্বাবধানে একটি দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ধারাবাহিক অভিযান চালায়। একপর্যায়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মজনু রাজা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ রাত সাড়ে ৮টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থানার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী খাসপাড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মজনু রাজা রংপুরের পীরগাছা থানার গণেশের খামার এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. রমজান আলী এবং মায়ের নাম মোছা. মর্জিনা বেগম।

পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মজনু রাজা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামির জবানবন্দির বরাতে জানানো হয়, বিথী আক্তার আশুলিয়া এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। অন্যদিকে, মজনু রাজা গাজীপুরের কাশিমপুর থানার শৈলডুবি এলাকার একটি অটোগ্যারেজে মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় চার বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা আশুলিয়ার জামগড়া রূপায়ন মাঠ এলাকায় বিথীর বাবা-মায়ের বাসার পাশে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রীর কর্মস্থলের সহকর্মীদের সঙ্গে চলাফেরা ও মুঠোফোনে কথা বলা নিয়ে মজনু রাজা সন্দেহ করতেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। গত ১২ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গ্যারেজের কাজ শেষে বাসায় ফেরেন মজনু রাজা। বিথী কর্মস্থলের কারও সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত—এমন সন্দেহ থেকে তাঁদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয় বলে পিবিআইয়ের বিবরণে বলা হয়েছে।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে মজনু রাজা উত্তেজিত হয়ে বিথীকে ধাক্কা দিয়ে খাটের ওপর ফেলে দেন। এরপর খাটের ওপর থাকা তাঁদের ব্যবহৃত একটি গামছা দিয়ে তাঁর গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই রহস্য উদ্‌ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ছায়া তদন্ত চলছিল। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রধান খবর

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪৬

স্পেনের তোলেদো প্রদেশে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বহু যাত্রী। উদ্ধারকাজ চলছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্পেনে দুই উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ১০

স্পেনের টোলেডো প্রদেশে দুই উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকালের এ দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে রেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সাগর-রুনি হত্যা: ১৪ বছরেও মেলেনি খুনিদের পরিচয়

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলায় ১৪ বছরেও খুনিদের পরিচয় ও হত্যার উদ্দেশ্য নিশ্চিত হয়নি। তদন্ত শেষ করতে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আসছে...