গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়া, সফটওয়্যারে অর্থ জমার তথ্য দেখানো এবং মালিকের সই করা ফাঁকা চেক ব্যবহার করে টাকা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) পার্থ সারথী হালদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রতিষ্ঠানটির মোট ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সিআইডি। সংস্থাটি বলছে, অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করে প্রতিষ্ঠানটি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পার্থ সারথী হালদারসহ অন্য অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে সফটওয়্যারে জমার তথ্য দেখানো হতো। আবার কখনো মালিকের সই করা ফাঁকা চেকে প্রাপকের নাম পরিবর্তন করে অর্থ ব্যক্তিগত হিসাবে সরিয়ে নেওয়া হতো।
সিআইডির তথ্যমতে, গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ নিজের ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাবে জমা ও স্থানান্তরের মাধ্যমে পার্থ সারথী হালদার ২ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৮৯৭ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এনআরবিসি ব্যাংকের দুটি হিসাব ব্যবহারসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে অর্থ আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে।
সানজি গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান পানামা সিএনজি কনভার্সন থেকেও একই ধরনের কৌশলে ৬৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি আরও জানিয়েছে, তদন্তে পার্থ সারথী হালদারের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৯ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা নগদ অর্থ এবং ফাঁকা চেক ব্যবহার করে অভিযুক্তরা ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শান্তিনগর মোড় এলাকা থেকে এ মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে জনি (৩৭) এবং সৈয়দ আরব আলী (৫২) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল সিআইডি।
সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ সারথী হালদার অপরাধে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তবে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় অন্য কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



