জার্মানির বোখুম শহরের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে তিন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত নাশকতা, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির পুলিশ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে বোখুমের হফস্টেডে এলাকার ওই আবাসিক ভবনে আগুন লাগে। পরদিন বুধবার সকালে পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত জানায়।
নিহত তিনজনের মধ্যে ২৬ বছর বয়সী একজন যুবক এবং ২৫ ও ২৭ বছর বয়সী দুজন তরুণী রয়েছেন। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
অগ্নিকাণ্ডে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে আরও পাঁচজন আহত হন। তাঁদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আহতদের জাতীয়তা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুন লাগার লক্ষণ পায়নি পুলিশ। এ কারণে ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে না দেখে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন তদন্তকারীরা।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই ভবনেরই বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী এক রোমানিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত এবং অগ্নিকাণ্ডে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য জানা যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, সিঁড়িপথ দিয়ে দ্রুত আগুন ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। ভবনে প্রবেশ করা এবং আটকে পড়া বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছাতে অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের মারাত্মক বেগ পেতে হয়। বিশেষ করে সিঁড়িপথ অবরুদ্ধ থাকায় ওপরের তলাগুলোতে পৌঁছানো তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের আগের দিন, রোববার, ওই ভবনে দুটি পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধের জেরে পুলিশ ডাকার ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গেছে। পূর্বের ওই বিরোধের সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে জার্মান কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, আগুন লাগানোর পেছনে কারও পরিকল্পিত ভূমিকা ছিল কি না এবং আগের বিরোধের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে তদন্ত চলছে।



