রাজধানীর উত্তরায় ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় সরকারবিরোধী একটি চক্রের সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা করছে পুলিশ। শ্রমিকদের আন্দোলনের আড়ালে দেশে নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণের তথ্য পাওয়া যায়নি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরার রাজলক্ষ্মী এলাকায় পঞ্চম দিনের মতো সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ সদস্য ও শ্রমিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া পুলিশের একটি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনে দুই শতাধিক পোশাকশ্রমিক অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স ১৮ বছরের কম বলে দাবি করেছে পুলিশ। আন্দোলন চলাকালে একাংশের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে বলে জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পুলিশের পিকআপভ্যান ভাঙচুর করা হয়।
এর কিছুক্ষণ পর সড়ক দিয়ে যাওয়া পোশাক পরিহিত এক পুলিশ কনস্টেবলের ওপর একদল আন্দোলনকারী হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় আহত ওই কনস্টেবল শিল্পাঞ্চল পুলিশের সদস্য। তাঁর এক হাত ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
উত্তরা বিভাগে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ পরিদর্শক দাবি করেন, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিদের অনেকেই পোশাকশ্রমিক নন এবং তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্করাও রয়েছেন। তাঁর ধারণা, বেতন বৃদ্ধির দাবির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি চক্র তরুণদের ব্যবহার করে নাশকতার চেষ্টা করছে। তবে এ দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ তিনি প্রকাশ্যে উপস্থাপন করেছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত—ক্রাইম প্রিভেনশন, উত্তর) মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তাঁদের দাবিদাওয়াগুলো বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) কাছে উপস্থাপন করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শ্রমিকেরা সেই প্রক্রিয়ায় না গিয়ে বারবার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করছেন। তাঁর ভাষ্য, শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে সরকারবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে অরাজকতা সৃষ্টি বা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে পুলিশের আশঙ্কা রয়েছে।
মহিদুল ইসলাম আরও বলেন, নাশকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশ মহাসড়ককেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ভেতরের সড়ক দিয়ে প্রবেশ করে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ ধাওয়া দিলে ভেতরের সড়কগুলোতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।



