টাঙ্গাইলের সখিপুরে অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সবুজ (১৪) নামে এক কিশোর চালককে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১৪। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে সখিপুরের বহেরাতৈল ইউনিয়নের আন্দিগ্রাম এলাকার গভীর জঙ্গল থেকে সবুজের মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তার মাথার খুলি, চুল, হাড়, পরিহিত শার্ট ও স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মামলার মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত শাহীন (৩০) ও হাবিব (৩৫)। বাহিনীটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে হাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সকালে শাহীনের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর শাহীনের দেখানো স্থান থেকে সবুজের মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্প আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাহিনীটির অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাসুদ রানা।
তিনি জানান, সখিপুর উপজেলার মিলপুর এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে সবুজ জীবিকার তাগিদে ভাড়ায় অটোভ্যান চালাত। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রতিদিনের মতো অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর সখিপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর গোপালপুর থানার সুতী পলাশ এলাকায় চোরাই অটোভ্যানসহ সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় স্থানীয় লোকজন আব্দুল করিম ও রফিকুল ইসলাম নামে দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে হাবিব ও শাহীন নামে আরও দুই সহযোগী পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় সবুজের বাবা বাদী হয়ে গত ১৫ অক্টোবর সখিপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
এসআরবি-১৪-এর অধিনায়ক জানান, সবুজ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই টাঙ্গাইল ক্যাম্প ছায়াতদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বিকেল ৩টার দিকে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি হাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হাবিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত শাহীনের অবস্থান শনাক্ত এবং সবুজের মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধারে সখিপুরের বহেরাতৈল ইউনিয়নের আন্দিগ্রাম এলাকার গভীর জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। তবে রাতের অন্ধকার ও ঘন জঙ্গলের কারণে প্রথম দফায় অভিযান সফল হয়নি।
পরে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী একই এলাকার গভীর জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে সবুজের মরদেহের অবশিষ্টাংশ, মাথার খুলি, চুল, হাড়, পরিহিত শার্ট ও স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
বাহিনীটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই সবুজকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসআরবি-১৪ জানায়, গ্রেপ্তার হাবিবকে সখিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শাহীনকে গ্রেপ্তার ও মামলার আলামত উদ্ধারের পর তাকে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল।



