অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে আবারও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। কোথাও স্বস্তি, কোথাও বাড়তি চাপ—সব মিলিয়ে ক্রেতাদের মাঝে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা আর বিরক্তি। বাজারে এসে অনেকেই হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, আর কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করে বলছেন—“বুঝতেই পারছি না কোন দেশে আছি!”
শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা বাজার ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমে ক্রেতাদের সামান্য স্বস্তি দিলেও ডিমের বাজারে উল্টো চিত্র পুরো পরিস্থিতিকে আবারও অস্বস্তিকর করে তুলেছে।
মুরগির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা কম। সোনালী মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন নেই—আসল সোনালী ৪৫০ টাকা এবং হাইব্রিড সোনালী ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় ব্রয়লারের দাম কমেছে, তবে এই স্বস্তি কতদিন থাকবে তা নিয়ে তারাও নিশ্চিত নন।
ক্রেতা আমিনুল বলেন, দাম কিছুটা কমায় ভালো লাগছে, কিন্তু বাজারের অবস্থা এমন যে আজ যা কম, কালই তা আবার বেড়ে যায়—এই অনিশ্চয়তাই সবচেয়ে বড় সমস্যা।
অন্যদিকে গরুর মাংসের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। বিক্রেতাদের মতে, আসন্ন ঈদের আগে এই দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম।
মাছের বাজারেও তুলনামূলক স্বাভাবিক অবস্থা দেখা গেছে। মাঝারি আকারের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকা কেজিতে। এছাড়া রুই ৩২০, তেলাপিয়া ২০০, সিলভার কার্প ১৬০, কই ১৪০, পাঙাস ২০০ এবং পাবদা ২৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, মাছের বাজারে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন নেই, শুধু ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে।
তবে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করেছে ডিমের বাজার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। বর্তমানে বড় ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায় এবং খাঁচির ডিম ১৩০ টাকায়। গত সপ্তাহে এই দাম ছিল যথাক্রমে ১২০ ও ১১০ টাকা।
ডিম কিনতে এসে ফারুক হোসেন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ডিম তো প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় একটি খাবার, বিশেষ করে শিশুদের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু হঠাৎ এমন দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার কথায়, “বাজারে এসে এখন আর কিছুই বোঝা যায় না—বুঝতেই পারছি না কোন দেশে আছি।”
সব মিলিয়ে, বাজারে আংশিক স্বস্তি থাকলেও নিত্যপণ্যের দামের ওঠানামা ক্রেতাদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থিতিশীল বাজার ব্যবস্থার অভাবই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের কাছে।



