অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি হঠাৎ করেই আবারও বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের নৌবাহিনী, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচলে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শনিবার ভোর থেকে এই জলপথে অবস্থানরত বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি জরুরি বেতার বার্তা পায়, যেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে প্রণালিটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কোনো জাহাজকে এই পথ অতিক্রম করতে দেয়া হবে না।
শিপিং খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঘোষণাটি আসার পরপরই প্রণালির প্রবেশমুখে থাকা জাহাজগুলো দিক পরিবর্তন করতে শুরু করে। অনেক জাহাজ নিরাপদ দূরত্বে সরে গেছে, আবার কিছু জাহাজ অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বড় তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প রুট খোঁজার চেষ্টা করছে, যদিও এই অঞ্চলে কার্যকর বিকল্প পথ খুবই সীমিত।
এর আগের দিনই ইরান ঘোষণা দিয়েছিল যে চলমান ১০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময় প্রণালিটি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে পুনরায় বন্ধের ঘোষণা দেয় তেহরান। এই দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং ইরানের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী–এর নজরদারি ও উপস্থিতি, অন্যদিকে ইরানের এই কঠোর ও অনিশ্চিত নীতির কারণে হরমুজ প্রণালি এখন বিশ্বের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু বাজার বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ তাদের জাহাজ চলাচল পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছে এবং অনেক শিপিং কোম্পানি সাময়িকভাবে এই রুট ব্যবহার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক চলাচল ফিরে আসবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।



