অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
জাতীয় দলের সাবেক তারকা ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানার মধ্যকার চলমান আইনি জটিলতা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক আবেগঘন ও প্রতিবাদী পোস্ট দিয়েছেন তামিমা সুলতানা।
২০২৬ সালের মে মাসের এই ঘটনার সূত্রপাত মূলত ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, যখন নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের মাত্র ১০ দিন পর তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় অভিযোগ করা হয় যে, তাকে যথাযথভাবে তালাক না দিয়েই তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন। এই আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় গত ৬ মে, বুধবার ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসির ও তামিমা—উভয়েরই সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানা গেছে। বাদীপক্ষ তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে, অন্যদিকে বিবাদীপক্ষ নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করে আসছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আজ ১১ মে, সোমবার তামিমা সুলতানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ ও অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি তার লেখায় বর্তমান সমাজের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তামিমা বলেন, যে সমাজে শিশু, বৃদ্ধা কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে এবং অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে চলছে, সেখানে একজন ডিভোর্সি নারীকে সম্মান দিয়ে বিয়ে করাকে অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সাধারণ নির্যাতিত নারীদের নিয়ে সংবাদমাধ্যম বা সাধারণ মানুষের তেমন মাথাব্যথা নেই, কারণ সেখানে বাণিজ্যিক স্বার্থ বা ভিউ পাওয়ার সুযোগ কম।
তামিমা আরও উল্লেখ করেন যে, সমাজের একটি অংশ নারীকে সবসময় অবদমিত রাখতে চায় এবং ভোগের সামগ্রী মনে করে। সেই প্রতিকূল পরিবেশে নাসির তাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে আগলে রেখেছেন এবং মাথার মুকুট করে রেখেছেন। নাসিরের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও ভালোবাসা ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, তথাকথিত কাপুরুষদের এই সমাজে নাসির হোসেন তার কাছে একজন প্রকৃত বীরপুরুষ। নাসিরের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছেন, তাদের সমালোচনাকে তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশ হিসেবেই দেখছেন এবং আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক এই লড়াইয়েও তিনি নাসিরের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন।



