রংপুরের বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংস হামলায় রিকশাচালক আরিফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদলের তিন নেতাকে দলীয় পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারাদেশ প্রদান করা হয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে রংপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ শাহ (মার্ডার ফিরোজ), বদরগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব গোপাল ব্যানার্জি এবং বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাটকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এখন থেকে দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী তাদের সাথে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক রাখতে পারবেন না। এর আগে গত ১১ মে জেলা পর্যায় থেকেও অভিযুক্তদের বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছিল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৫ মে রংপুর আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে ‘মার্ডার ফিরোজ’ গ্যাং এবং মমিনুল গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ হয়। আদালত থেকে ফেরার পর বিকেলে বদরগঞ্জের আম্বিয়ার মোড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষ একে অপরকে খুঁজতে শুরু করলে সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে থাকা রিকশাচালক আরিফুল ইসলামকে (২৮) পথরোধ করা হয়। তিনি তার বাড়ি পাঠানপাড়া গ্রামে বলতেই ফিরোজ গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে প্রতিপক্ষ মমিনুল গ্রুপের লোক ভেবে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও মারধর করে জখম করে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আরিফুল ইসলাম বদরগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রেজাউল ইসলামের ছেলে।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, বহিষ্কৃত এই নেতাদের অপরাধের রেকর্ড অত্যন্ত দীর্ঘ। মূল হোতা ফিরোজ শাহ ওরফে ‘মার্ডার ফিরোজের’ বিরুদ্ধে ৩টি হত্যাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এছাড়া গোপাল ব্যানার্জি ৩টি এবং মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাট ৪টি হত্যা মামলার আসামি। এই ঘটনায় নিহতের বাবা রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ১২ মে র্যাব নওগাঁ থেকে গোপাল ব্যানার্জিকে গ্রেপ্তার করে। বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানিয়েছেন, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



