অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এখন এক অনন্য রূপ ধারণ করেছে, যেখানে সড়কের বিআরটি প্রকল্প এলাকার অন্ধকার ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দূর হয়ে ফুটে উঠেছে বর্ণিল ফুলের সমারোহ।
দেশের অন্যতম ব্যস্ততম এই মহাসড়কটি আগে সাধারণ মানুষের জন্য ছিল ভোগান্তির কারণ। বিশেষ করে বিআরটি প্রকল্প এলাকায় মাদকসেবী, ছিনতাইকারী ও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। যানজট আর কোলাহলে পূর্ণ এই বিপজ্জনক এলাকাটিকে পুরোপুরি বদলে দিতে উদ্যোগ নেয় গাজীপুর সিটি করপোরেশন। গ্রিন সিটি ও ক্লিন সিটি গড়ার লক্ষ্যে সিটি প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারের সরাসরি তদারকিতে শুরু হয় মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। বর্তমানে সেই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের পরিবর্তে মহাসড়কের দুই পাশে ও ডিভাইডারে শোভা পাচ্ছে হাজারো ফুলের চারা।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ কুমার বসাক জানান, টঙ্গী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে পুরো মহাসড়ককে এই সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। এরই মধ্যে সড়কের আবর্জনা পরিষ্কার করে রোপণ করা হয়েছে নীল কাঞ্চন, কামিনী, কৃষ্ণচূড়া, টগর, রাধাচূড়া, পলাশ, কদম, জারুল এবং জাপানি চেরি গোত্রের ক্যাসিয়া রেনিজেরার মতো বৈচিত্র্যময় সব গাছ। বিশেষ করে ভাওয়ালের শাল-গজারির বনের বুক চিরে এই রঙিন ফুলের সমারোহ যাত্রীদের মুগ্ধ করছে। যান্ত্রিক এই শহরের ইট-পাথরের মাঝে এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে পথচারীরা থমকে দাঁড়াচ্ছেন, অনেকে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপানের চেরি ব্লসমের সঙ্গে তুলনা করছেন।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহাম্মেদ জানান, মহাসড়ক দৃষ্টিনন্দন করতে কয়েক হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও অবদান রাখছে। সিটি প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার জানিয়েছেন, একটি পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়তে জনস্বার্থে এই উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ অব্যাহত থাকবে। এখন এই মহাসড়কে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীরা কোলাহলের মাঝেও খুঁজে পাচ্ছেন এক চিলতে স্বস্তি ও প্রশান্তি।



