অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
যেই পথ ধরে বিগত স্বৈরাচার হেঁটেছে বর্তমান সরকারও ঠিক সেই পথ ধরেই হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ শনিবার (১৬ মে) গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আয়োজিত রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করা মানে এ দেশের সাধারণ মানুষকে সরাসরি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখানো। সরকার যদি অনতিবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে তবেই এ দেশের জনগণ তাদের ক্ষমা করতে পারেন, অন্যথায় জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে রাজপথে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সরকারি দলের সমালোচনা করে জামায়াত আমির আরও বলেন, আপনারা মুখে সংস্কারের কথা বললেও সংস্কারের প্রথম দফার সঙ্গেই চরম গাদ্দারি করছেন এবং সাধারণ গুম কমিশনকে মেনে নিচ্ছেন।
উক্ত বিশাল সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি তাঁর বক্তব্যে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্ডের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, জনগণের পকেটে থাকা এই কার্ডগুলোতে যদি শেষ পর্যন্ত টাকা না আসে, তবে সাধারণ মানুষও বসে থাকবে না; তারা সরকারের হাতে একটি নতুন কার্ড ধরিয়ে দেবে যা হবে ‘লাল কার্ড’। আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন নিয়ে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বাংলাদেশে যদি কোনোভাবে আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা ফিরে আসতে পারে, তবে তারা প্রথম গুলিটা বিএনপি নেতা তারেক রহমানের বুকে মারবে। সরকারকে লক্ষ্য করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে যদি আপনারা সঠিক সময়ে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্পন্ন না করেন, তবে এ দেশের সচেতন জনগণ আপনাদের গদি রাখবে না। রাজশাহীবাসীর জীবন বাঁচাতে পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সামনে কোনো প্রকার নতজানু নীতি বা আপস করা যাবে না। সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বলেন যে সীমান্তে হত্যা চললে কোনো প্রকৃত দেশপ্রেমিক বা জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনো ঘরে বসে থাকতে পারে না।



