রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হওয়া আট বছর বয়সী এক শিশুর পিতা ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের সন্তান হারানোর তীব্র আকুতি প্রকাশ করে এই পৈশাচিক অপরাধের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নিয়ে সুগভীর প্রশ্ন তুলেছেন।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে বিএনপির উদ্যোগে গঠিত ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্যসহায়তা সেল‘ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়‘ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত হয়ে এই হতভাগ্য পিতা হাত জোড় করে তাঁর বুকভাঙা আর্তনাদ তুলে ধরেন। গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ধর্ষণের শিকার ওই শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল, যে ঘটনায় আসামি সোহেলকে ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন; আদালত আগামী ৭ জুন এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন। গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে নিহত শিশুটির বাবা প্রশ্ন করেন, খণ্ডবিখণ্ড হওয়া তাঁর সোনার টুকরো সন্তানের এই নির্মম পরিণতির দায়িত্ব কার—তাঁর নিজের, সমাজের, নাকি রাষ্ট্রের অবহেলার। তিনি একজন ধর্ষিতার কিংবা খণ্ডিত লাশের বাবা হিসেবে নয়, বরং একজন গর্বিত পিতা হিসেবে সমাজে বেঁচে থাকার সম্মান ফেরত চান এবং এমন একটি নিরাপদ সমাজব্যবস্থা দাবি করেন যেখানে আর কোনো বাবা–মায়ের বুক খালি হবে না। সন্তান হারানোর ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণার পূর্বমুহূর্তে এই বাবা জানান, ঘটনার ১৩ দিন পরও তাঁর স্ত্রী তীব্র মানসিক ট্রমায় ভুগছেন এবং বড় মেয়েকে নিয়েও তিনি চরম উদ্বেগের মধ্যে আছেন। শুধু নিজের পরিবারই নয়, দেশের সামগ্রিক শিশু সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জানান, গতকাল তাঁর বাড়িতে আসা মাত্র পাঁচ বছরের একটি শিশুও ‘ধর্ষণ‘ শব্দটি শিখে গেছে এবং আতঙ্কে একা টয়লেটেও যেতে পারছে না, যা বর্তমান বাংলাদেশের শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়ের চিত্র। বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই গোলটেবিল বৈঠকে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমান এবং আইনজীবী রাশনা ইমামসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, যাদের সামনে এই পিতা তাঁর মেয়ে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।



