পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধের জেরে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে এক যুবককে নারিকেল গাছের সঙ্গে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে শ্বশুরবাড়ির লোকজন কর্তৃক বর্বরভাবে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের বাদলাকুড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী যুবক যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা, যিনি বিয়ের পর থেকে শেরপুরে তার শ্বশুর মহর উদ্দিনের বাড়িতেই সস্ত্রীক বসবাস করছিলেন। গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখ বৃহস্পতিবার দুপুরে পারিবারিক আর্থিক লেনদেনের হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে এই সহিংস ঘটনার সূত্রপাত হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ১৯ জুন ২০২৬ তারিখ শুক্রবার ভুক্তভোগী যুবকের স্ত্রী নিজেই বাদী হয়ে তার বাবা-মাসহ নয়জনের বিরুদ্ধে নালিতাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই ওই যুবকের সঙ্গে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের পারিবারিক ও আর্থিক নানা বিষয়ে বিরোধ চলছিল। নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানও নিশ্চিত করেছেন যে টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে পূর্ববিরোধের জের ধরে পাওনা টাকার হিসাব ও টাকা ফেরত চাইলে জামাইয়ের সঙ্গে শ্বশুর মহর উদ্দিনের তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এর পরপরই শ্বশুরপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যুবককে বাড়ির ভেতরের একটি নারিকেল গাছের সঙ্গে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং নির্মমভাবে মারধর করে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিকলবন্দি অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে এই সংঘর্ষের ঘটনায় শ্বশুর মহর উদ্দিন ও শাশুড়িও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্ত শ্বশুর মহর উদ্দিন নিজের সপক্ষে দাবি করে বলেন, “মেয়ের জামাই বিভিন্ন অনিয়ম ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ঘটনার তার গায়ে হাত তুলেছেন মেয়ের জামাই।”
ঘটনার আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, “ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় শ্বশুরসহ জড়িতদের আসামি করা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”



