পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জেল-জামিন চক্রে থামছে না অপরাধ ও অভিযোগ

সাইফ আহমেদ সাদ

অভিযোগ থেকে মামলা, অভিযান এবং গ্রেপ্তার, এরপর কারাগার। জামিনে বের হয়ে ফের নতুন মামলা। এ যেন এক অসমাপ্ত চক্র। ঢাকাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের খবর যারা রাখেন, তাদের কাছে এই চিত্র নতুন নয়। দিন, পঞ্জিকার পাতা বদলায়, কিন্তু হাতে গোনা  কয়েকটা মানুষের নামে খুন, মারামারি, অস্ত্র, মাদক কিংবা চাঁদাবাজির মামলা জমা হয় কিন্তু থামে না। তাদের বেশির ভাগই হলেন দেশ ও দেশের বাইরে থাকা সন্ত্রাসীর আদলে চলা কিছু উগ্রপন্থি।

প্রশাসন সব জানলেও আসল বাধাটা কোথায়? আইনের মুখোমুখি করার পরও কেন এই অসমাপ্ত বৃত্ত ভাঙছে না? পুলিশ কি তবে শুধু অভিযানেই ইতি টানছে, নাকি মামলার তদন্ত আর বিচারকাজের ভেতরেই এমন কোনো ফাঁক-ফোকর দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে তারা?

পুলিশ সূত্রে জমা, নথি ঘেঁটে যে হিসাবটা পাওয়া গেল, তা বাধ্য করে কপালে চোখ তুলতে। রাজধানীর অপরাধে পরিচিত এমন মাত্র ৫ জনের নামেই অন্তত ১০০টি মামলা। তালিকার এক নম্বরে মনোয়ার হাসান জীবন ওরফে লেদু হাসান। শুধু তার ঘাড়ে ঝুলছে ৪১টি মামলা। বানিয়া সোহেল ওরফে ভুঁইয়া সোহেলের বিরুদ্ধে রয়েছে ২৮টা, ফরিদউদ্দিন বাবু বাবুর নামে ২০টি মামলা, আনোয়ার হোসেন ওরফে পঞ্জিকাটি আনোয়ারের নামে রয়েছে ৬ টি মামলা আর লম্বু মোশারফের নামে ৫টা মামলার হদিশ মিলেছে। মামলা জমেছে সর্বমোট ১০০ টি।

এবার মামলার নথির পাতা উলটিয়ে দেখা যায়, অপরাধের চরিত্রগুলো একদম হুবহু। হত্যা বা হত্যার চেষ্টা, অস্ত্র আর মাদকের কারবার, ককটেল বানানো, চাঁদা দাবি কিংবা পুলিশকে মারতে যাওয়ার মতো অভিযোগ এসেছে বারবার। অভিযোগ রূপ নিয়েছে মামলায়। বছর বছর ধরে একটা একটা করে যুক্ত হয়ে আজ এই মামলার স্তূপ জমছে এবং বিচার যেন আলো আঁধারের খেলা খেলছে  ।

পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্তাদের কাছে জানতে চাইলে, তারা অবশ্য বলছেন অন্য কথা। সংঘবদ্ধ গ্যাংয়ের লোকজনের নামে একাধিক মামলা থাকাটা যদিও নতুন কিছু নয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদি বলেন, অপরাধীরা এক মামলায় খালাস করলেও অন্য মামলায় জামিন নেওয়ার আইনি পথ তো থাকেই। বিচার শেষ হতে বছরের পর বছর পার হয়ে যায়, ফলে তারা আবার বাইরে আসার সুযোগ পেয়ে যায়।

একই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞানের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, এই চুনোপুঁটিগুলোকে ধরে কোনো দিন এই সিন্ডিকেট খতম করা যাবে না। পর্দার আড়ালে যারা কার্যসিদ্ধ করার জন্য টাকা ঢালছে, গডফাদার সেজে ছাতা ধরে রাখছে, তাদের ঘাড়ে হাত না দিলে একই ঘটনার সমাপ্তি ঘটবে না।

একই চেনা লোককে বারবার ধরতে গিয়ে পুলিশের যে বিপুল সময়, শ্রম আর সরকারি টাকা নষ্ট হচ্ছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমনভাবে চলতে থাকলে দিনশেষে তার আউটপুট তো প্রায় শূন্যের কোঠায়। আর নাগরিকেরা পুলিশের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

তবে আইনজীবীদের দাবি কিছুটা ভিন্ন। তাদের মতে, জামিন পাওয়া যে-কোনো আসামির আইনি অধিকার। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজীম হোসাইন চৌধুরি বলেন, তদন্ত কত দূর এগিয়েছে আর কাগজের জোর কতটুকু আদালত তা দেখেই তো সিদ্ধান্ত দেবেন। তাই অপরাধ বন্ধ না হওয়ার পেছনে শুধু জামিন পাওয়াকে দোষ দিলে আসল গলদটা আড়ালেই থেকে যাবে।

তাহলে এই মামলাজট ছাড়ানোর উপায় কী? জানতে চাইলে তিনি বলেন, গন্ডগোল মেটাতে হলে তদন্ত দ্রুত শেষ করে শক্ত চার্জশিট দেওয়া ছাড়া গতি নেই। সঙ্গে সাক্ষীদের নিরাপত্তা দেওয়া, স্পেশাল বেঞ্চে জলদি বিচার শেষ করা আর আন্ডারওয়ার্লেডের এই গ্যাংগুলোর আয়ের মূল রাস্তাটা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া দরকার।

প্রধান খবর

ভারতে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা: মোদি সরকার

ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে মোদি সরকার। প্রতিবেদনে প্রত্যর্পণ, ভিসা ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কও উঠে এসেছে।

দুদকের জালে সাবেক দুই কমিশনারসহ ১০ সাবেক সচিব, সম্পদের হিসাব চাওয়া; বদিউর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলায় নথি তলব

মুনতাসীর মামুন ;   দুর্নীতির প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার দাবি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক দুই কমিশনারসহ ১০ সাবেক সচিবের বিরুদ্ধে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারি করেছে। একই সঙ্গে আল-আরাফাহ

আসছে...