ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে যেমন তথ্যপ্রাপ্তি ও মতপ্রকাশের সুযোগ বেড়েছে, তেমনি গুজব, অপতথ্য, মানহানি, সাইবার বুলিং, ডিজিটাল চাঁদাবাজি এবং এআই-নির্ভর ভুয়া কনটেন্টের মতো সাইবার অপরাধও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাস্তবতায় সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর প্রচারণা এবং কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ডিজিটাল কনটেন্ট প্রচারকে স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, সাইবার মাধ্যমে গুজব বা অপতথ্য ছড়ানোর অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৪০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও, অডিও, ছবি বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির প্রস্তাব রয়েছে। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে অপপ্রচার, ব্ল্যাকমেইল, চরিত্রহনন এবং ডিজিটাল চাঁদাবাজির অভিযোগ বাড়ছে। ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ নাগরিক—অনেকেই এসব অপরাধের শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার পাশাপাশি অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ভুক্তভোগী দ্রুত ও কার্যকর আইনি প্রতিকার না পাওয়ায় অপরাধীরা দায়মুক্তির সুযোগ পাচ্ছে। ফলে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আইন ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাইবার বুলিং বর্তমানে নারী, কিশোর-কিশোরী এবং তরুণদের জন্য বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা ভিডিও বিকৃতভাবে ছড়িয়ে মানসিক নির্যাতনের কারণে অনেকেই গুরুতর মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালাও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি অন্যের সুনাম, জননিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় যৌক্তিক আইনি সীমাবদ্ধতার সুযোগ স্বীকার করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্টসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভুয়া তথ্য ও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন কার্যকর রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশেও সাইবার সুরক্ষা আইন এমনভাবে সংশোধন ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, যাতে একদিকে গুজব, অপতথ্য, সাইবার বুলিং ও ডিজিটাল চাঁদাবাজি দমন করা যায়, অন্যদিকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও বৈধ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকে।



