জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে কারাগার থেকে মতিউর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
আদালত অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন। পরে মতিউর রহমানের জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হলে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন।
দুদকের অভিযোগ
দুদকের চার্জশিটে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালে কুরবানির জন্য ১৫ লাখ টাকায় ছাগল কেনার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সম্পদের বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পরে দুদক মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে তাদের নামে ৬৫ বিঘা জমি, আটটি ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়ার কথা জানায় দুদক।
এছাড়া মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব এবং শেয়ারবাজারের বিও হিসাব ক্রোক করা হয়।



