ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের পর ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর গুঞ্জন নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।
সোমবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে রাতে পৌনে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার জানান, হাসপাতালে পদদলিত হয়ে কিংবা অগ্নিকাণ্ডে কেউ মারা গেছেন—এমন তথ্যের সপক্ষে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গণমাধ্যমে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য প্রচারের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, যেকোনো তথ্য প্রকাশের পূর্বে তা শতভাগ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন, নতুবা অসংলগ্ন তথ্য চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, মর্গ এবং অন্যান্য তালিকাগুলো নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখে সব তথ্যের মিল খোঁজা হচ্ছে এবং চূড়ান্ত নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রকৃত পরিস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
একই বিষয়ে রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, নিহতদের যে তালিকা সামাজিক মাধ্যমে বা বাতাসে ভাসছে, সেগুলোর স্বজনদের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগের চেষ্টা করছে, তবে এখনো মৃত্যুর সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সরেজমিনে সমন্বিতভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে তাঁদের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে এবং সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং অগ্নিকাণ্ড ছোট হলেও প্রচণ্ড ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার কারণে মানুষের মধ্যে ব্যাপক ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সময় ভবনে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানান, নতুন ভবনের পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে চারটি তালাবদ্ধ ছিল এবং কেবল একটি সিঁড়ি খোলা থাকায় রোগী ও স্বজনেরা চরম বিপাকে পড়েন। তাড়াহুড়ো করে একমাত্র খোলা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কিতে বেশ কয়েকজন আহত হন বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে।
পরিস্থিতি তদারকিতে রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান এক জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে সোয়া ১০টার দিকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।



