পাবনার কুলোনিয়ায় স্কুলছাত্রী কামরুন নাহার কলি (১০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিককে ‘মূলহোতা’ হিসেবে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও মানববন্ধন করেছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঘটনার পর মোস্তফা প্রামাণিক ও তার এক ভাড়াটিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তদন্তে হত্যাকাণ্ডে মোস্তফার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পাশাপাশি তার স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তফা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। আটক অপর ব্যক্তিকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিহত কলির বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। তবে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে কলি হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা কলি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কামরুন নাহার কলি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া এলাকায় নিজ বাসার পাশের একটি ডোবা থেকে তার খণ্ড-বিখণ্ড বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।



