২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ফুটবল দলে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ দিচ্ছেন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। সেই দলে জায়গা পেয়েছেন ১৬ বছর বয়সী কাভান সুলিভান, যিনি বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের দুই ফুটবলার রোনান ও ডেকলান সুলিভানের ভাই।
পেরু, চিলি, মেক্সিকো ও কানাডার বিপক্ষে আসন্ন চারটি প্রীতি ম্যাচের জন্য পচেত্তিনোর ঘোষিত ২৮ সদস্যের দলে কাভান সুলিভানসহ আটজন তরুণ ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের কারণেও কাভান সুলিভানের নামটি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। তাঁর ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভান বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। তাঁদের নানি সুলতানা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসতি স্থাপন করেন।
ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে পেশাদার ফুটবলে উঠে আসা কাভান আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ১৭ বছরে পা দেবেন। অল্প বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে তাঁকে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ১৬টি ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলেছেন সুলিভান। এসব ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ছয়টি। সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন আরও নয়টি।
ক্লাব ফুটবলে তাঁর পারফরম্যান্সের কারণে ইতিমধ্যে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরও কেড়েছেন এই কিশোর। ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ চুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ১৮ বছর বয়সে পৌঁছালে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে তাঁর নতুন ঠিকানা হওয়ার কথা রয়েছে।
সুলিভানের জাতীয় দলে ডাক পাওয়াকে তাঁর পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন পচেত্তিনো।
কাভানকে নিয়ে পচেত্তিনো বলেন, ‘যে আলো আজ ওকে ঘিরে আছে, তার পুরোটাই ওর প্রাপ্য। সে ভালো খেলছে, গোল করছে, করাচ্ছে। বয়সটা তার মাত্র ১৬, এখনো শৈশবের ঘ্রাণ গায়ে। তবে আমাদের জন্য আনন্দের বিষয় হলো, এবার তার সঙ্গে একসূত্রে বাঁধার সুযোগ এসেছে। জাতীয় দলের আঙিনায় ওর সঙ্গে স্বপ্ন ভাগ করে নেওয়া যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বয়সে এমএলএসের কঠিন মঞ্চে এভাবে দ্যুতি ছড়ানো সত্যিই দুর্লভ। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলের আকাশ আরও বড়, আরও ঝোড়ো। আমাদের দায়িত্ব ওর ডানায় এমন বাতাস দেওয়া, যেন সে প্রতিদিন আরও উঁচুতে উড়তে পারে।’
পচেত্তিনো গেল মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল দলের সঙ্গে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিজের চুক্তি বাড়িয়েছেন। তাঁর অধীনেই বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র শেষ ষোলোয় উঠেছিল। তবে বেলজিয়ামের কাছে হেরে তাদের সেই যাত্রা থেমে যায়।
সেই দলের ১৩ জন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে এবারও দলে রেখেছেন পচেত্তিনো। তবে চোটের কারণে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক ও ফোলারিন বালোগানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা এবারের দলে থাকছেন না।
নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞদের সঙ্গে তাঁদের সমন্বয় ঘটিয়ে দল গড়তে চান পচেত্তিনো।
তিনি বলেন, ‘এটি সবার জন্য নতুন করে বেঁচে ওঠার সুযোগ। অভিজ্ঞতার প্রজ্ঞা আর তাজা রক্তের তারুণ্য মিলিয়ে আমরা নতুন এক রসায়ন তৈরি করতে চাই। আমাদের সংস্কৃতি, কাজের ধরন আর ফুটবলের মূল দর্শনকে বুকে ধারণ করাই এখন প্রধান কাজ।’
পচেত্তিনো আরও বলেন, ‘আর সবকিছুর ওপরে, লাল-সাদা-নীল জার্সিটার মর্যাদা বজায় রাখার ব্যাকুলতা থাকতে হবে প্রত্যেকের মাঝে।’
চারটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই আন্তর্জাতিক ফুটবল পর্ব।
২৬ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে পেরুর মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর সেন্ট লুইসে চিলির বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি।
৩ অক্টোবর অ্যারিজোনার গ্লেনডেলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেক্সিকোর বিপক্ষে খেলবে যুক্তরাষ্ট্র। চার ম্যাচের শেষটি হবে ৬ অক্টোবর মিনেসোটার সেন্ট পলে কানাডার বিপক্ষে।
এই চার ম্যাচে কাভান সুলিভানের আন্তর্জাতিক অভিষেকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি তাই বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।



