নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের প্রথম দিন সদর দপ্তরের কাছে সন্দেহজনক একটি স্যুটকেস ঘিরে বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ নিশ্চিত করে, স্যুটকেসটি বিপজ্জনক ছিল না এবং এলাকাটি নিরাপদ।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে সন্দেহজনক স্যুটকেস পাওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে নিউইয়র্ক পুলিশ ও সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা আশপাশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে দ্বিতীয় ও লেক্সিংটন এভিনিউয়ের মধ্যবর্তী ৪২তম থেকে ৪৪তম স্ট্রিট পর্যন্ত একাধিক ব্লকে যানবাহন ও পথচারী চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরে বিশেষায়িত বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্যুটকেসটি পরীক্ষা করে। তদন্ত শেষে কোনো ধরনের ঝুঁকি না পাওয়ায় অধিকাংশ সড়ক আবার খুলে দেওয়া হয়। তবে তৃতীয় ও লেক্সিংটন এভিনিউয়ের মধ্যবর্তী ৪৩তম স্ট্রিটে সাময়িকভাবে বিধিনিষেধ বহাল রাখা হয়েছিল।
ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করা স্থানীয় এক কর্মজীবী জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ একের পর এক ভিআইপি গাড়ির বহর ও পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়। পরে পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ৪২তম স্ট্রিটের উত্তর পাশের থার্ড এভিনিউ প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। এ সময় সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, পরিত্যক্ত কোনো স্যুটকেস বা ব্যাগ থেকেই এই নিরাপত্তা-আতঙ্কের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে তল্লাশি শেষে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ জানায়, ব্যাগটি বিপজ্জনক ছিল না।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বর্তমানে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এবারের অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন, মহামারি মোকাবিলাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের উপস্থিতির কারণে জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও আশপাশের এলাকায় আগে থেকেই কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। সদর দপ্তর থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে সন্দেহজনক স্যুটকেসকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
তবে বোমা স্কোয়াডের তল্লাশিতে কোনো ঝুঁকি না পাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং বন্ধ করে দেওয়া অধিকাংশ সড়ক পুনরায় যানবাহন ও পথচারীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।



