পরীক্ষামূলক সংস্করণ

পুতিনকে মায়ামির জি২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের

ইউরোপের আপত্তির মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আগামী ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠেয় জি২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার কাঠামোর মধ্যে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন।

বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুবিও। তিনি বলেন, পুতিনকে জি২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং সেখানে তিনি শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নয়, বিশ্বের অন্যান্য নেতার সঙ্গেও আলোচনার সুযোগ পাবেন।

রুবিও বলেন, ‘আমরা মনে করি এটি তাঁর জন্য কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গেই নয়; বরং বিশ্বের অন্যান্য নেতার সঙ্গেও আলোচনার একটি সুযোগ। আমরা আশা করি, তিনি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন।’

রুবিও আরও বলেন, ‘আপনি যদি কেবল তাদের সঙ্গেই বৈঠক করেন, যাদের সঙ্গে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি মেলে, তবে সেই বৈঠকগুলো খুব সৌহার্দ্যপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু সমাধান কিছু আসে। সমস্যা সমাধানের জন্য আপনাকে এমন লোকদের সঙ্গে বসতে হবে, যাদের সঙ্গে আপনার মতভেদ রয়েছে বা যাদের নিয়ে ঝামেলা আছে।’

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এই সম্মেলনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে ক্রেমলিন জানিয়েছে, আমন্ত্রণটি তারা বিবেচনা করবে। পুতিন অংশ নিলে ২০১৯ সালের পর এটিই হবে জি২০ নেতাদের সম্মেলনে তাঁর প্রথম সশরীর উপস্থিতি। ২০২৩ সালে তিনি ভার্চুয়ালি জি২০ সম্মেলনের একটি অধিবেশনে অংশ নিয়েছিলেন।

এবারের জি২০ সম্মেলন ডিসেম্বরের ১৪ ও ১৫ তারিখ মায়ামির ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল রিসোর্টে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা থাকলেও এ ধরনের কোনো বৈঠক এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত থাকার মধ্যেই পুতিনকে এই আমন্ত্রণ জানানো হলো। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে একটি সীমিত যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারসহ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা কমানোর মাধ্যমে সংঘাতের কিছু প্রভাব কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে রুবিও স্পষ্ট করেছেন, এ ধরনের একটি জ্বালানি যুদ্ধবিরতি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির সমান নয়।

এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কায় ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হলেও তা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারেনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার উদ্যোগের মধ্যেই মায়ামির সম্মেলনে পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানো হলো। ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি এই আমন্ত্রণকে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জি২০ কী

জি২০ বা ‘গ্রুপ অব টোয়েন্টি’ বিশ্বের প্রধান ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম। ১৯৯৯ সালে অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের পর্যায়ে এটি গঠিত হয়। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মেলন হিসেবে এর ভূমিকা আরও বিস্তৃত হয়।

জি২০তে ১৯টি দেশ এবং দুটি আঞ্চলিক সংস্থা—ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ)—রয়েছে। সদস্যরা সম্মিলিতভাবে বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৮৫ শতাংশ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৭৫ শতাংশের বেশি এবং বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

১৯টি দেশ হলো—আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, মেক্সিকো, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। এর সঙ্গে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়ন।

বৈশ্বিক অর্থনীতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি, টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সমন্বয় ও সহযোগিতার জন্য জি২০ একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপক্ষীয় ফোরাম হিসেবে কাজ করে।

প্রধান খবর

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪৬

স্পেনের তোলেদো প্রদেশে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বহু যাত্রী। উদ্ধারকাজ চলছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আসছে...