রাজধানীর উত্তরা এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন। ১৫ আসামির মধ্যে ১৪ জনকে তিন দিনের এবং ফারজানা (২১) নামে এক আসামিকে এক দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন সাংবাদিকদের বলেন, আসামিরা শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা ও মিলাদ মাহফিলের জন্য একত্রিত হয়েছিলেন। তার দাবি, এ ধরনের আয়োজনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর সড়কে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
মঙ্গলবার আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে পুলিশ দাবি করে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা এবং রাষ্ট্রের অবকাঠামো ধ্বংসের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযানের সময় একটি কক্ষের টেবিলের ড্রয়ার থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়ন কমিটির পদপ্রত্যাশী ২০ জনের নাম ও জীবনবৃত্তান্তসংবলিত ২০ পৃষ্ঠা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা কাগজপত্রে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের লোগো, শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা ছিল।
এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তে ঘটনার মূলহোতা ও নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত, অর্থের জোগানদাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন বলে আদালতে আবেদনে উল্লেখ করে পুলিশ।



