নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে কটূক্তি ও চিৎকার-চেঁচামেচির একটি ভিডিও দেখে হতবাক হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি ‘গ্যাসলাইটিং’ ও ‘প্রজেকশন’—এই দুটি মনস্তাত্ত্বিক ধারণার কথা তুলে ধরেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে সোহেল তাজ লেখেন, “নিউজে প্রফেসর ইউনূসকে নিউ ইয়র্কের জেএফকে এয়ারপোর্টে হেনস্তা করার ভিডিও দেখে হতবাক হয়ে গেলাম। কতটুক নির্লজ্জ বেহায়া হলে নিজেরাই যেই গণহত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি করেছে, গণতন্ত্রকে কবর দিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল; তারাই এখন সেই দায় আরেকজনের উপর চাপানোর চেষ্টা করছে। এটাই হচ্ছে সাবেক স্বৈরাচার পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাদুর ট্যাবলেট, এই ট্যাবলেট খেয়ে এদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।”
সোহেল তাজের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের আচরণকে মনোবিজ্ঞানী ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা গ্যাসলাইটিং এবং প্রজেকশন—এই দুটি ধারণার আলোকে ব্যাখ্যা করতে পারেন।
গ্যাসলাইটিং বলতে এমন একধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তারের কৌশলকে বোঝায়, যেখানে একজন ব্যক্তি অন্য কাউকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা তথ্য দেন বা কোনো ঘটনা অস্বীকার করেন। এর ফলে অন্য ব্যক্তি নিজের স্মৃতি, উপলব্ধি ও বিচারবোধ নিয়ে সন্দেহে পড়তে পারেন। অন্যদিকে, মনস্তাত্ত্বিক প্রজেকশন হলো এমন একটি আত্মরক্ষামূলক প্রক্রিয়া, যেখানে কেউ নিজের অগ্রহণযোগ্য চিন্তা, অনুভূতি, উদ্দেশ্য বা অনিরাপত্তা অন্যের ওপর আরোপ করেন।
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লবি দিয়ে যাওয়ার সময় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কয়েকজন ব্যক্তি চিৎকার-চেঁচামেচি ও কটূক্তি করেন। ওই সময় ইউনূস হুইলচেয়ারে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিডিওতে কয়েকজনকে তাঁকে উদ্দেশ করে ‘Why you come here…’—অর্থাৎ, ‘আপনি কেন এখানে এসেছেন…’—বলতে শোনা যায় বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশে গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রশ্ন তোলা হয় বলে জানা গেছে।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় অধ্যাপক ইউনূসের সফরসঙ্গীরা তাঁকে নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে যান বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের সময়ও অধ্যাপক ইউনূসের আগমনকে কেন্দ্র করে জেএফকে বিমানবন্দরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় তাঁর সফরসঙ্গী কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাও হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।



