তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার ও কৃষি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডস। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে দেশটির মন্ত্রী বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। বৈঠকে বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, রোহিঙ্গা সংকট, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপযুক্ত সময় এখন। বিশেষ করে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্তসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
এ সময় তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি পরিচালনা এবং এ বিষয়ে জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ সরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই বদ্বীপ রাষ্ট্র। তাই অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ সময় তিনি ভূমি পুনরুদ্ধারে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার, চর উন্নয়ন এবং অভিযোজনক্ষম নদীব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে মুক্ত বাণিজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগ সম্পর্কেও জানতে চান নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক পরিকল্পনার প্রশংসা করেন তিনি।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের অবস্থান হলো, এ সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চায়। সংকট সমাধানে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কৃষি খাতেও বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে নেদারল্যান্ডস। দেশটির অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও সুসংহত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইওরিস ভ্যান বোমেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



