ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমাতে রাজধানীর শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন উড়াল রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত ‘কর্ডলাইন’ বা বিকল্প রেলপথটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াতের সময় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা কমতে পারে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমেও অবহিত করা হয়।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, রেলপথ মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে পুরো রেলপথ উড়াল কাঠামোয় নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। গত ৫ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়। তবে প্রস্তাবিত রেলপথটি সম্পূর্ণ উড়াল হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হবে।
প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চার বছর সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, পুরো রেলপথ উড়াল কাঠামোয় নির্মাণ করা হলে প্রায় ৩২২ একর জমি সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে, মাটির বাঁধ ও উড়াল কাঠামোর সমন্বয়ে রেলপথটি নির্মাণ করা হলে সম্ভাব্য ব্যয় হতো প্রায় ৭৩ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাটির বাঁধ ও উড়াল কাঠামোর মিশ্র পদ্ধতির পরিবর্তে পুরো রেলপথ উড়াল হিসেবে নির্মাণের প্রস্তাবে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর বিনিময়ে প্রায় ৩২২ একর জমি সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত রেলপথটির কারিগরি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য উপদেষ্টা জানান, এটি হবে ডাবল ট্র্যাকের ব্রডগেজ রেলপথ। রেলপথটি ২৫ টন ‘এক্সেল লোড’ বহনে সক্ষম করে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর নকশাগত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার এবং পরিচালনগত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে এ রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার সুযোগ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে রেলযাত্রার দূরত্ব ও সময় কমানোর পাশাপাশি রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়তে পারে।
তবে প্রকল্পটির চূড়ান্ত নকশা, নির্মাণপদ্ধতি ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এখনো সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।



