গাইবান্ধা বাণিজ্য মেলায় বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে সাংবাদিক মাসুম লুমেনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অলিভ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে গাইবান্ধা শহরের বিহারি পট্টি এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাংবাদিক মাসুম লুমেন দৈনিক সমকাল ও রাইজিংবিডি ডটকমের গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। মঙ্গলবার রাতে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের জন্য তিনি শহরের সাবেক অফিসার্স কোয়ার্টার মাঠে আয়োজিত গাইবান্ধা বাণিজ্য মেলায় যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ৭১ টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন তাজরুল ইসলাম। মেলায় বক্তব্য গ্রহণ ও ছবি ধারণ শেষে ফেরার পথে মেলার গেট প্রাঙ্গণে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মাসুম লুমেনের অভিযোগ, মেলা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অলিভ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালান। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের হামলার শিকার হওয়াকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে গাইবান্ধা সদর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাসুম লুমেন। তাঁর ভাষ্য, সংবাদ সংগ্রহের কাজে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া কিংবা তাঁদের ওপর হামলার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিক শাহাবুদ্দিন তোতা বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাংবাদিকেরা কারও ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়, বরং জনস্বার্থে তথ্য তুলে ধরতে কাজ করেন। সংবাদ প্রকাশে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু হামলা চালিয়ে সাংবাদিকের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সময় টেলিভিশনের প্রতিবেদক বিপ্লব ইসলামও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সাংবাদিক যেন হামলা, ভয়ভীতি কিংবা বাধার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাভেদ হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক হামলা বা হয়রানির শিকার হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সংবাদ সংগ্রহে বাধা কিংবা হামলার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা জানান, সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগে অলিভ মিয়াকে শহরের বিহারি পট্টি এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



