নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে পি.আই. ওশান টেক্স নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. তৈয়ব মিয়া। এতে শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং তিনি নিজেও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তৈয়ব মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ধাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় অবস্থিত শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাটি প্রায় চার বছর ধরে ১০ ফুট প্রশস্ত একটি এজমালি রাস্তা ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছিল। তাঁর অভিযোগ, ২০২৬ সালের মার্চে এইচ এ এম মাহমুদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি জমির মালিকানা দাবি করে তাঁর কাছে ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা চান। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কারখানায় যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
তৈয়ব মিয়ার অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে কারখানায় হামলা চালিয়ে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বের করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া রাস্তার ওপর ৮ থেকে ১০ ফুট উঁচু দেয়াল নির্মাণ করা হয়। রাস্তার ওপর ময়লা-আবর্জনা ও বয়লারের বর্জ্য ফেলে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাহমুদুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা করেছেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্যের মধ্যে পাওয়া যায়নি।
কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকায় বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার ও রপ্তানি চুক্তি বাতিল হয়েছে বলে দাবি করেন তৈয়ব মিয়া। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধেও জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কারখানার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থানও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তৈয়ব মিয়া জানান, এ ঘটনায় তিনি ফতুল্লা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পাশাপাশি রাস্তার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতে মামলা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জমির দলিল ও রেকর্ড যাচাই করে রাস্তা সচল করা, চাঁদা দাবির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, কারখানা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।



