নতুন কুঁড়ির দ্বিতীয় আসরে অনলাইনে ১৬ লাখের বেশি কিশোর-কিশোরীর নিবন্ধন হয়েছে। এবারের আসরে টেবিল টেনিস ও ভলিবল যুক্ত হওয়ায় মোট ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিয়ন থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, ৫০৩টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় আসর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।
সম্প্রতি শেষ হয়েছে নতুন কুঁড়ির প্রথম আসর। প্রথম আসরের অভিজ্ঞতা থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদে প্রশিক্ষণ ও বিকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, অতীতে অনেক টুর্নামেন্ট আয়োজনের পর প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খোঁজ আর রাখা হতো না। ক্রীড়াঙ্গনে এটি দীর্ঘদিনের বাস্তবতা ছিল। নতুন কুঁড়ির ক্ষেত্রে সেই ধারার বাইরে গিয়ে খেলোয়াড়দের নিয়মিত পরিচর্যার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রথম আসর থেকে পাওয়া ৩১০ জন ক্রীড়াবিদকে নিয়ে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ৪০ দিনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এই প্রশিক্ষণ থেকে বিশেষ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাই করে বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে খেলাধুলার পাশাপাশি তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
তিনি আরও জানান, শুধু ঢাকার বিকেএসপি নয়, দেশের অন্যান্য বিকেএসপিকেও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর কার্যক্রম চলছে বলে জানান তিনি।
দ্বিতীয় আসরে প্রতিযোগিতার পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নের দল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। অনলাইনে নিবন্ধন করেছে ১৬ লাখ ৩ হাজার কিশোর-কিশোরী। তাদের মধ্যে প্রায় ৯ লাখ কিশোর এবং ৬ লাখের কিছু বেশি কিশোরী রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম বলেন, নতুন কুঁড়িতে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়লে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তাদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে। এতে মেয়েদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের বিষয়ে পরিবারগুলোর আগ্রহ ও উৎসাহও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রথম আসরের তুলনায় দ্বিতীয় আসরে দুটি নতুন ইভেন্ট—টেবিল টেনিস ও ভলিবল—যুক্ত হচ্ছে। ফলে এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ১০টি ইভেন্ট থাকবে। আগের ইভেন্টগুলো হলো অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ফুটবল, ক্রিকেট, মার্শাল আর্ট, দাবা, ব্যাডমিন্টন ও কাবাডি।
রোজা, ঈদ ও স্কুলের পরীক্ষার সময় বিবেচনায় রেখে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার সূচি সাজানো হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আগামী বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে অথবা মে মাসের শুরুতে জাতীয় পর্যায়ের খেলা আয়োজন করতে চায়।



