ভারত থেকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো মমতাজ বেগম নামের এক নারীর বর্তমান অবস্থান খুঁজে বের করতে কেন্দ্রীয় সরকার ও আসাম রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গুয়াহাটি হাইকোর্ট। গত জুনে ওই নারীকে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত মে মাসে আসামের নগাঁওয়ের চার নম্বর ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল থেকে মমতাজ বেগম নামের ওই গৃহবধূকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে জুন মাসে তাঁকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে মমতাজ বেগমের স্বামী আদালতে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করেন। এ ধরনের আবেদনের মাধ্যমে নিখোঁজ বা বেআইনিভাবে আটক ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা এবং তাঁকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ চাওয়া হয়।
আদালতের শুনানিতে উঠে আসে, মমতাজ বেগম ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের রায়ের অনুলিপি পাননি। ফলে ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আবেদন করার সুযোগ থেকেও তিনি বঞ্চিত হন।
জানা গেছে, নগাঁও থেকে মমতাজ বেগমকে গোয়ালপাড়ার মাটিয়া আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল। পরে জুনের মাঝামাঝি সময়ে তাঁকে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিএসএফ তাঁকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়।
এদিকে, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের মে মাসের রায়ের সারসংক্ষেপ কোন তারিখে তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত শেষ হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
গত বুধবার বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি প্রাঞ্জল দাসের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাজ্য প্রশাসনকে নিখোঁজ নারীর বর্তমান অবস্থান অবিলম্বে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া, আইনি প্রতিকার পাওয়ার অধিকার এবং সীমান্ত পার করে পাঠানো ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, ট্রাইব্যুনালের রায়ের অনুলিপি না পাওয়া এবং উচ্চতর আদালতে আবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগটি আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।



