অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
এক বছরের ব্যবধানে দেশে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) এর দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে—এমন কারণ দেখিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম যেখানে হাজার টাকার নিচে নেমেছিল, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই দাম বেড়েছে ৬৩৪ টাকা। জানুয়ারিতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা এবং এপ্রিলের শুরুতে তা এক লাফে ১ হাজার ৭২৮ টাকায় পৌঁছে। পরবর্তীতে আবারও দাম বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসেই এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তাদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে যুদ্ধ ও জ্বালানি বাজারের ওঠানামা—মূল্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের মূল্যবৃদ্ধিতে এলপিজি ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনেকটাই প্রতিফলিত হয়েছে। জাহাজ ভাড়া, আমদানি প্রিমিয়াম ও ইনস্যুরেন্স খরচ বাড়ার বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতারা জানান, বর্তমানে আমদানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভোক্তাদের অভিযোগ—সরকার নির্ধারিত মূল্যে বাজারে এলপিজি পাওয়া যায় না। বাস্তবে খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে এলপিজি বাজার মূলত বেসরকারি খাতনির্ভর। সরকারি উদ্যোগে উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত হওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হয়নি। ফলে দাম নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে জ্বালানি খাতে সার্বিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। পেট্রোল, ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার পাশাপাশি এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, গ্যাসের পাইপলাইন থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সরবরাহ না থাকায় এলপিজির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, ফলে মাসিক ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এলপিজির দাম সহসা কমার সম্ভাবনা কম। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং সরবরাহ স্থিতিশীল হলে ভবিষ্যতে দাম কিছুটা কমতে পারে।



