অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন নীতি কাঠামোর আওতায় ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সামরিক অবদান ও আনুগত্যের ভিত্তিতে একটি মূল্যায়ন তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই তালিকায় কোন দেশ কতটা সামরিক সহযোগিতা দিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাশে কতটা সক্রিয় ভূমিকা রাখছে—তার ভিত্তিতে দেশগুলোকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়েছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের বরাতে জানা যায়, আসন্ন সফরে ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান অনুযায়ী, যারা যৌথ প্রতিরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, আর যারা দায়িত্ব এড়িয়ে যাবে তাদের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধতা আসতে পারে। এর আগেও তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর সামরিক ব্যয়ের চাপ বাড়ানোর কথা বলেছিলেন।
এদিকে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ন্যাটোর ভেতরে মতপার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পোল্যান্ড ও রোমানিয়ার মতো কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত হলেও ব্রিটেন, ফ্রান্স ও স্পেনের মতো দেশ সরাসরি সামরিক সহযোগিতা থেকে দূরে রয়েছে বলে জানা গেছে।
পেন্টাগনের নীতি অনুযায়ী, যারা সামরিক ব্যয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করবে তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে কিছু দেশ আধুনিক অস্ত্র ক্রয় ও যৌথ সামরিক মহড়ার সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে এই কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কিছু সিনেটরের মতে, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে এমন কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে ন্যাটোর ঐক্য দুর্বল করতে পারে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।



