অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা-এর কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় বিপাকে পড়েছে ২০ জন পরীক্ষার্থী। বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার দিন দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভুলে তাদেরকে ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার পরিবর্তে ২০২৫ সালের ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পুরনো প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৩ এপ্রিল) প্রথম দিনের পরীক্ষায়। ওই কেন্দ্রের একটি কক্ষে থাকা চারটি স্কুলের পরীক্ষার্থীরা—পুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ফেমাস ইন্সটিটিউট, হাজী শমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঘাঘটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট ২০ জন শিক্ষার্থী—এই ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেয়।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার সময়ই তারা প্রশ্নপত্রের অসামঞ্জস্য বুঝতে পেরে আপত্তি তুললেও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে তাদেরকে সেই প্রশ্নেই পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বাধ্য করেন। ফলে পরীক্ষার পর থেকেই তারা ফলাফল নিয়ে গভীর শঙ্কায় রয়েছে, কারণ এই প্রশ্নপত্র তাদের পাঠ্যসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
এক পরীক্ষার্থী মাহিমা আক্তার মিম জানায়, সে নিয়মিতভাবে ভালো ফলাফল করেছে এবং পরীক্ষার আগে স্কুল টেস্টেও সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিল। তবে ভুল প্রশ্নপত্রের কারণে সে বাংলায় ভালো ফল তো দূরের কথা, পাস করা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নরসিংদী প্রেস ক্লাবে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা দাবি করেন, দায়িত্বশীলদের গাফিলতির কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ. কে. এম শাহজাহান বলেন, “এটি স্পষ্ট অবহেলা। প্রশ্নপত্র যাচাইয়ের দায়িত্ব কেন্দ্র সচিব ও হল সুপারের ছিল। ভুল প্রশ্ন বিতরণ সম্পূর্ণ প্রশাসনিক গাফিলতি।”
এ বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মু. রাশেদুজ্জামান জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রের দায়িত্বরতদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী।



