অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
দেশজুড়ে হামের ভয়াবহতা আরও গভীর হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যার মধ্যে ৪ জন নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি ৩ জন উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে পর্যাপ্ত আইসোলেশন বা আক্রান্তদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা না থাকা। হাসপাতালের ভেতরে শয্যা সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ রোগীদের সঙ্গে রাখতে হচ্ছে, যা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত পৃথকীকরণ ব্যবস্থা জোরদার না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৫৫৯ জনে। এর মধ্যে ৪ হাজার ২৩১ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ১৯ হাজার ৭০৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, আর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ হাজার ৫২৭ জন। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৯৮ জন।
শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে ১ হাজার ২১৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই শিশু। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম চাপের মধ্যে কাজ করছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়ায়—বিশেষ করে টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে। সময়মতো টিকাদান না হওয়া এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা এই প্রাদুর্ভাবকে দীর্ঘায়িত করছে। তারা পরামর্শ দিচ্ছেন, শিশুদের জ্বর, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি শুধু স্বাস্থ্যখাতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে না, বরং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিকেও নতুন মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে। তাই দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন সুবিধা বৃদ্ধি এবং সচেতনতা বাড়ানো—এই তিনটি বিষয়কে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।



