অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নামে ভয়াবহ প্রতারণার এক চিত্র সামনে এসেছে, যেখানে ভুয়া কার্ড তৈরি করে হাজারো সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় মূলহোতা হিসেবে জেসমিন বেগম এবং তার সহযোগী মেহেদী হাসান মিদুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের পলশা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানের পর শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, “খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মতো করে ভুয়া কার্ড বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের চাল বিতরণ করে আসছিল এই চক্রের মূলহোতা জেসমিন বেগম।”
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ২০ হাজার পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে প্রায় ৮ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে চাল দেওয়ার সরকারি কর্মসূচির নাম ব্যবহার করে এই প্রতারণা চালানো হয়। সাধারণ মানুষকে বোঝানো হতো, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিলে তারা সরকারি তালিকাভুক্ত হয়ে নিয়মিত চালসহ অন্যান্য সুবিধা পাবে। বাস্তবে তাদের দেওয়া হতো নিম্নমানের চাল, তাও অনিয়মিতভাবে।
এতেই শেষ নয়, একই চক্র সরকারি ঘর বরাদ্দ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নামেও টাকা আদায় করেছে। বিভিন্ন উপজেলার কয়েক হাজার মানুষের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ একটি সংগঠিত প্রতারণা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করা হয়েছে।
এর আগে জেলা প্রশাসন ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের যৌথ অভিযানে জেসমিন বেগমকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়, যখন তিনি ভুয়া কার্ডের মাধ্যমে চাল বিতরণ করছিলেন। এরপরই বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের এবং পরবর্তী গ্রেফতার অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আদালত যাচাই করবে, সরকারি কর্মসূচির নামে অর্থ নেওয়ার কোনো বৈধতা ছিল কি না। তবে প্রাথমিকভাবে এটি সুস্পষ্ট প্রতারণা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



