অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
মার্কিন রাজনীতির বহুল আলোচিত ব্যক্তিত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও প্রাণঘাতী হুমকি থেকে রক্ষা পেয়েছেন—আর এ নিয়ে মাত্র ২১ মাসে তিনবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন তিনি। সর্বশেষ শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন-এর বার্ষিক নৈশভোজ চলাকালে এক বন্দুকধারী নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়লে মুহূর্তেই তৈরি হয় চরম আতঙ্ক। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ট্রাম্পকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় নিরাপত্তা বাহিনী।
ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে একটি কাকতালীয় কারণে—এই একই হোটেলে ১৯৮১ সালে রোনাল্ড রেগান গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। ফলে নতুন এই নিরাপত্তা ভাঙন শুধু তাৎক্ষণিক আতঙ্কই নয়, পুরোনো ইতিহাসের ছায়াও ফিরিয়ে আনে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত হামলার ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই, পেনসিলভানিয়ার বাটলার শহরে। এক নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ২০ বছর বয়সী টমাস ক্রুকস ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি বুলেট তার ডান কানের ওপরের অংশে আঘাত করে। ঘটনাটি তার রাজনৈতিক জীবন এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা—দুই দিক থেকেই বড় এক মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়।
এর মাত্র দুই মাস পর, ১৫ সেপ্টেম্বর, ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে তার গলফ কোর্সের কাছে আবারও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে ওত পেতে থাকা এক রাইফেলধারী ব্যক্তিকে আটক করে সিক্রেট সার্ভিস। তদন্তে জানা যায়, তার লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পকে হত্যা করা।
এ ধরনের হুমকি নতুন নয়। ২০১৬ সালে লাস ভেগাসে এক নির্বাচনী সমাবেশে এক ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তার অস্ত্র ছিনিয়ে ট্রাম্পকে আঘাত করার চেষ্টা করে। আবার ২০১৭ সালে উত্তর ডাকোটায় এক ব্যক্তি ফর্কলিফট ব্যবহার করে ট্রাম্পের গাড়িবহরে হামলার পরিকল্পনা করেছিল, যদিও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা ব্যর্থ হয়।
বারবার মৃত্যুঝুঁকি থেকে ফিরে আসা ট্রাম্প নিজেও তার পেশার ঝুঁকি নিয়ে সরব হয়েছেন। সর্বশেষ ঘটনার পর তিনি বলেন, “এর চেয়ে বিপজ্জনক আর কোনো পেশা আছে কি না, তা আমি কল্পনাও করতে পারি না।” তার এই মন্তব্যে স্পষ্ট—রাজনীতির মঞ্চে তিনি যেমন দৃঢ়, তেমনি ঝুঁকির বিষয়েও সচেতন।



