অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে কুমিল্লায় তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য ও রহস্য। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো সরাসরি জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে র্যাব, ডিবি, সিআইডি ও পিবিআইসহ একাধিক সংস্থা একসঙ্গে ছায়া তদন্ত চালাচ্ছে।
র্যাব রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় জানায়, কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনায় “ক্লুলেস ও চাঞ্চল্যকর এই মামলার রহস্য উদঘাটন হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিস্তারিত প্রেস ব্রিফিং করা হবে।” একই সঙ্গে কুমিল্লা র্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, “হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে, খুব শিগগিরই জড়িতদের গ্রেপ্তার সম্পর্কে জানানো হবে।”
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নিহত বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে আসার পর হাইওয়েতে নেমে কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ এলাকায় পৌঁছান। রাত আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটে তিনি বাসায় শেষবারের মতো কথা বলেন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনটি আর তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও জানা যায়, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার মোবাইল ফোন চালু অবস্থায় ছিল এবং তখন তার অবস্থান দেখায় কুমিল্লার চৌয়ারা এলাকায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই এলাকায় তাকে আটকে রেখে টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন ও ক্যামেরাসহ অন্যান্য মালামাল লুট করা হয় এবং পরে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর তার মরদেহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ী এলাকার একটি হোটেলের সামনে ফুটপাতে ফেলে রাখা হয়।
শনিবার সকালে স্থানীয়রা আইরিশ হোটেলের পাশের রাস্তা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে প্রায় দেড় বছর আগে চাকরিতে যোগ দেন। সর্বশেষ তিনি কুমিল্লা কাস্টমসের বিবির বাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবার নিয়ে রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।



