অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
দেশের সব বিমানবন্দরে, বিশেষ করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (গোপনীয়) কামরুল আহসানের স্বাক্ষরিত একটি সতর্কতামূলক চিঠির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সংস্থাকে সতর্ক করা হয়। ওই চিঠিতে জানানো হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি আবারও সক্রিয় হয়েছে এবং তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে।
এই সতর্কতার পরপরই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়। প্রবেশ ও বহির্গমন পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, তল্লাশি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকধারী ও ইউনিফর্মধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো আচরণ দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে, বিশেষ করে যেসব বিমানবন্দরে রাতে ফ্লাইট কম বা বন্ধ থাকে সেগুলোতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি আমরা পাইনি। তবে আগাম সতর্কতা হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটি নিয়মিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়ারই অংশ।”
তিনি আরও জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে শুধু বিশেষ পরিস্থিতির কারণে নয়, বরং নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবেও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি এন্ট্রি পয়েন্টে তল্লাশি কঠোরভাবে করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতি যেন না থাকে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে—সাম্প্রতিক সময়ে আটক কিছু উগ্রবাদী সদস্য এবং সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত কিছু ব্যক্তির মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। তারা একাধিক স্পর্শকাতর স্থানে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি ভবন, নিরাপত্তা বাহিনীর স্থাপনা, উপাসনালয় ও জনসমাগমস্থল।
এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়াতে এবং গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয় জোরদার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



