অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
চিকিৎসকদের ওপর সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এক গভীর উদ্বেগের কারণ—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে ‘চিকিৎসক সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সহিংসতা প্রতিরোধের সময় এখনই, চিকিৎসকের ওপর সহিংসতাকে না বলুন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ বৈঠকে দেশের স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
ডা. রফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন, চিকিৎসকের ওপর হামলা মানে কেবল একজন ব্যক্তিকে আঘাত করা নয়; বরং এটি রোগীর নিরাপদ চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে, হাসপাতালের স্বাভাবিক সেবা-পরিবেশকে নষ্ট করে এবং পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। তিনি বলেন, চিকিৎসা একটি জটিল ও মানবিক পেশা, যেখানে নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। কখনও কখনও চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিতে পারে, এমনকি রোগীর মৃত্যু ঘটতেও পারে—কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের ওপর অশালীন আচরণ, শারীরিক হামলা, ভাঙচুর বা জিম্মি করার মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে হঠাৎ করেই স্বাস্থ্যখাতে সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দলীয়ভাবেও তাদের প্রতি সংহতি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য নীতিতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপির পক্ষ থেকে জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারি উদ্যোগ প্রসঙ্গে ডা. রফিক বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তিনি মনে করেন, শুধু নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনই যথেষ্ট নয়—জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আইন প্রয়োগের কঠোরতা এবং স্বাস্থ্যখাতে কাঠামোগত সংস্কারও জরুরি।
এই গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকি, অধ্যাপক সৈয়দ আতিকুল হক, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলামসহ দেশের খ্যাতনামা চিকিৎসকরা। তারা সবাই একমত পোষণ করেন যে, চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব নয়।



