অল ক্রাইমস. টিভি ডেস্ক
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি বা এনপিটি-এর পর্যালোচনা সম্মেলনে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে শুরু হওয়া এক মাসব্যাপী এই সম্মেলনের প্রথম দিনেই দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা দেখা যায়।
সম্মেলনের চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ডো হাং ভিয়েত জানান, জোট নিরপেক্ষ দেশগুলোর পক্ষ থেকে ইরানকে সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ ব্যুরোর সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়িউ বলেন, ইরানকে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো এনপিটির জন্য “অপমানজনক”। তার অভিযোগ, তেহরান দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক বিস্তাররোধে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মানছে না এবং আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থাগুলোর সঙ্গেও সহযোগিতা করছে না।
এই সমালোচনার জবাবে ইরানের প্রতিনিধি ও আইএইএ-এ নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে “ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারকারী একমাত্র দেশ এবং এখনো তাদের অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন করছে, ফলে অন্যদের সমালোচনা করার নৈতিক অবস্থান তাদের নেই।
এই উত্তপ্ত বাকবিনিময় এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পারমাণবিক ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের পরও দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা হয়নি। মার্কিন নেতৃত্ব বারবার বলছে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে ইরান দাবি করছে, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের রয়েছে এবং তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়া উচিত। তবে পশ্চিমা দেশগুলো আশঙ্কা করছে, এই সুযোগ ব্যবহার করে তেহরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোতে পারে।
সব মিলিয়ে, এনপিটি সম্মেলনে ইরানের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়া শুধু একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি বিশ্ব রাজনীতিতে পারমাণবিক ইস্যু ঘিরে বিদ্যমান উত্তেজনা ও বিভক্তির নতুন করে বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।



