অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে ৯ হাজার ৪৩৪ হেক্টর জমির বোরো ফসল এখন পানির নিচে।
২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টি এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে নেত্রকোনা জেলার হাওরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন হাওরে চাষ করা প্রায় ৯ হাজার ৪৩৪ হেক্টর বোরো ধান তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে আটপাড়া উপজেলার সুমাইখালী হাওর এবং মদন উপজেলার গণেশের হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জলমগ্ন। অধিকাংশ ফসলি জমিতে কোমর সমান পানি জমে যাওয়ায় আধুনিক যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
হাওরাঞ্চলের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকরা চরম শ্রমিক সংকটে পড়েছেন। একদিকে বজ্রপাতের ভয়, অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাইরের শ্রমিকরা মাঠে নামতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিরুপায় কৃষকরা তাদের একমাত্র সম্বল ফসলটুকু রক্ষায় পরিবারের স্কুলপড়ুয়া শিশু এবং নারী সদস্যদের নিয়ে পানির নিচে ডুব দিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। ঢলের পানিতে ডুবে যাওয়া এই কাঁচা ও আধা-পাকা ধান কেটে আনার পরও কৃষকদের ভোগান্তি শেষ হচ্ছে না। আকাশে সূর্যের দেখা না মেলায় এবং টানা বৃষ্টির কারণে কেটে আনা ভেজা ধান শুকানোর কোনো উপায় থাকছে না, যার ফলে ধান পচে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, এই বোরো ফসলই তাদের সারা বছরের খাবারের একমাত্র জোগান। বর্তমানে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় এবং ধান শুকাতে না পারায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। যান্ত্রিক হারভেস্টার মেশিনগুলো পানির কারণে অচল হয়ে পড়ায় এখন সম্পূর্ণ কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।



