অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে তাদের দলীয় ইশতেহারে পরিণত করে জনগণের সাথে প্রতারণা করছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাহাত্ম্য নষ্ট করছে।
২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম এই কড়া সমালোচনা করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে তিনি বলেন, জুলাই সনদকে একটি দলীয় দলিলে পরিণত করার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ যেভাবে বাহাত্তরের সংবিধানকে ব্যবহার করেছিল, বিএনপিও এখন জুলাই সনদকে একইভাবে ব্যবহার করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে একটি রাজনৈতিক গণরায় উল্লেখ করে তিনি দ্রুত সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান এবং অভিযোগ করেন যে বিএনপি সংস্কারের পথ ছেড়ে কেবল নির্বাচনমুখী ইশতেহারে মনোনিবেশ করছে।
দেশের রাজনীতিতে বিদ্যমান ‘সাথে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি’ সংস্কৃতির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও এখনো সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিভাজন থাকা দুঃখজনক। তিনি মন্তব্য করেন যে, মুক্তিযুদ্ধ কোনো ষড়যন্ত্র ছিল না, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের নাম দিয়ে লুটপাট ও ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে তিনি মুক্তিযুদ্ধেরই ‘নবায়ন’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং ইতিহাসের বিতর্ক পেছনে ফেলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন। তিনি মনে করেন, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতার কারণেই এই বির্তকের এখনো মীমাংসা হয়নি।
আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ দাবি করেন, বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে, যার বড় অংশই সরকারি দলের সদস্যদের। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে ৫৯.৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত ছিলেন যারা কেবল নামমাত্র টাকা জমা দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করে সংসদ সদস্য হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই ঋণ পুনঃতফসিল করার কাজে সহায়তা দিতেই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে আর্থিক খাতে সাধারণ মানুষের আস্থা আজ তলানিতে।



