অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
২০২১ সালের ‘মরটাল কমব্যাট’ সিনেমার শেষ দৃশ্যে দেখা গিয়েছিল, কোল ইয়ং ও তাঁর সহযোদ্ধারা আর্থ্রিল্মের পক্ষে প্রথম যুদ্ধে জয় পেলেও বিপদ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সেই ঘটনার পর কেটে গেছে বেশ কিছু সময়। কোল ইয়ং, লিউ কাং, স্কর্পিয়ন, সাব-জিরো, সোনিয়া, জ্যাক্স ও ক্যানো—সবাই নিজ নিজ জীবনে ফিরে গেছে। তবে আর্থ্রিল্মের আকাশে তখনও বজ্রপাত চলছিল রেইডেনের হাতে, আর সেই বজ্রের আড়ালে শোনা যাচ্ছিল শাও কানের ভয়ংকর হাসি।
অন্ধকারের সিংহাসনে বসে শাও কান দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রিল্ম ধ্বংসের পরিকল্পনা করে আসছেন। তাঁর লক্ষ্য একটাই—আর্থ্রিল্মের যোদ্ধাদের ভেতরে বিভাজন তৈরি করে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি আবারও ফিরিয়ে আনেন মারাত্মক ‘মরটাল কমব্যাট টুর্নামেন্ট’, যেখানে নিয়ম একটাই—এক রাউন্ডের লড়াই, মৃত্যু বা জয়। এখান থেকেই শুরু হয় ‘মরটাল কমব্যাট ২’ সিনেমার গল্প।
সিনেমার শুরুতে দেখা যায় লস অ্যাঞ্জেলেসে জনি কেজকে, যার আসল নাম জনাথন কার্লটন। তিনি একটি অ্যাকশন সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত। তাঁর লড়াইয়ের কৌশল দেখে বোঝা যায়, তিনি শুধু অভিনেতা নন, তাঁর ভেতরে রয়েছে যোদ্ধার রক্ত। কিন্তু হঠাৎ সেটে আক্রমণ করে বসে বরফশক্তির যোদ্ধা বি-হান। শুরুতে জনি এটিকে প্রচারণার অংশ মনে করলেও বাস্তবতা বুঝতে বেশি সময় লাগে না। কোনোভাবে পালিয়ে তিনি পৌঁছান এক পুরোনো মার্শাল আর্ট একাডেমিতে, যেখানে তাঁর দেখা হয় লিউ কাং ও কুং লাওয়ের সঙ্গে।
অন্যদিকে আউটওয়ার্ল্ডে শাও কান তাঁর সেনাপতি শাং সুং ও কুয়ান চিকে নির্দেশ দেন আর্থ্রিল্ম ধ্বংসের। তাঁর লক্ষ্য শুধু যুদ্ধ নয়, বরং আর্থ্রিল্মকে ভেতর থেকে দুর্বল করা। এই সময় আউটওয়ার্ল্ডের রাজকন্যা কিতানা গোপনে জানতে পারেন সত্য—তাঁর পিতাকে হত্যা করেছেন শাও কান।
বজ্রের দেবতা রেইডেন পৃথিবীর যোদ্ধাদের ডেকে পাঠান উ পাং মন্দিরে। সেখানে উপস্থিত হন কোল ইয়ং, জ্যাক্স, স্কর্পিয়ন, মাইলিনা ও সোনিয়া ব্লেড। রেইডেন ঘোষণা করেন নতুন লড়াইয়ের নিয়ম, যেখানে পরাজয় মানেই মৃত্যু। শুরুতে জনি কেজ সবকিছু উপহাস করলেও স্কর্পিয়নের ভয়ংকর শক্তি দেখে তিনি বাস্তবতা উপলব্ধি করেন। শুরু হয় কঠোর প্রশিক্ষণ।
এক পর্যায়ে শাও কানের বাহিনী সরাসরি আক্রমণ চালায়। লড়াইয়ের মধ্যে জনি তাঁর ভেতরের শক্তি জাগিয়ে তুলেন। অন্যদিকে কিতানা ও জেড গোপনে আর্থ্রিল্মে এসে কোল ইয়ংয়ের সঙ্গে দেখা করেন এবং জানান শাও কানের ষড়যন্ত্রের কথা। কিন্তু কোল তাঁদের পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না।
শাং সুংয়ের জাদুতে জ্যাক্স, সোনিয়া ও কুং লাওকে বন্দি করা হয় এবং নিয়ে যাওয়া হয় ভয়ংকর ‘জীবন্ত অরণ্যে’। তাদের উদ্ধার করতে কোল, লিউ কাং, জনি ও স্কর্পিয়ন এগিয়ে যান। সেখানে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়।
শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত লড়াইয়ে শাও কান নিজে অংশ নেন। কোল ইয়ং, লিউ কাং, জনি কেজ ও কিতানা একসঙ্গে লড়াই করেও তাঁকে সহজে পরাজিত করতে পারেন না। অবশেষে জনি তাঁর বিশেষ শক্তি ব্যবহার করে শাও কানের বর্ম ভেঙে দেন। যদিও শাও কান পুরোপুরি পরাজিত হন না, তিনি পিছু হটে প্রতিজ্ঞা করেন যে আবার ফিরে আসবেন।
পরিচালক এই সিনেমায় শুধু অ্যাকশন নয়, প্রতিটি চরিত্রের আবেগ, দ্বিধা ও সংগ্রামকে গুরুত্ব দিয়েছেন। লড়াইয়ের পাশাপাশি চরিত্রগুলোর ভেতরের মানসিক পরিবর্তনও ফুটে উঠেছে।
পুরোনো চরিত্রগুলোর পাশাপাশি নতুন চরিত্র হিসেবে জনি কেজ, কিতানা, জেড ও শাও কান যুক্ত হয়েছেন। সিনেমাটি প্রিমিয়ার হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেসে, আর মুক্তির আগেই এর ট্রেলার ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মধ্যে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি করেছে।



