অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে রাশিয়ায় সৃষ্ট চরম অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থানের আশঙ্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বর্তমানে মাটির নিচে সুরক্ষিত গোপন বাঙ্কারে দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি করেছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রিতা এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার কারণে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিরাপত্তা নিয়ে নজিরবিহীন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রাণনাশের আশঙ্কা এবং সামরিক অভ্যুত্থানের ভয়ে পুতিন এখন লোকচক্ষুর অন্তরালে অবস্থান করছেন। যদিও কোভিড মহামারীর সময় থেকেই তিনি নিজেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলেন, তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু বা হত্যার ঘটনায় তিনি পুরোপুরি বাঙ্কার-নির্ভর হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি মস্কোর সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে দক্ষিণ রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের মাটির নিচে বিশেষভাবে নির্মিত একটি সুরক্ষিত বাঙ্কারে মাসের পর মাস অবস্থান করছেন।
পুতিনের কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মী যেমন—রাঁধুনি, আলোকচিত্রী এবং দেহরক্ষীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তাদের মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের অনুমতি নেই এবং এমনকি তাদের বাড়িতেও সার্বক্ষণিক নজরদারি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো পুতিনকে সুস্থ ও স্বাভাবিক দেখানোর জন্য প্রায়ই আগে থেকে রেকর্ড করা ভিডিও প্রচার করছে। এদিকে, সম্ভাব্য ড্রোন হামলা ঠেকাতে মস্কোর ইন্টারনেট পরিষেবা প্রায়ই বন্ধ রাখা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পুতিনের এই দীর্ঘ জনবিচ্ছিন্নতা নিয়ে খোদ রাশিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সম্প্রতি জনপ্রিয় রুশ ব্লগার ভিক্টোরিয়া বোনিয়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে মানুষ এখন প্রেসিডেন্টকে ভয় পাচ্ছে। কেবল পুতিনই নন, রাশিয়ার শীর্ষ ১০ জেনারেলের নিরাপত্তার ভারও এখন গোয়েন্দা সংস্থা এফএসও-র হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনগণের থেকে প্রেসিডেন্টের এই ক্রমবর্ধমান দূরত্ব ও গোয়েন্দা নির্ভরতা রাশিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে।



