অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছেন।
২০২৬ সালের ৪ মে প্রকাশিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে দুই শতাধিক আসনে জয়লাভ করে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার ইতিহাস গড়েছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানালে রাজ্যে একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়। এই অচলাবস্থা নিরসনে আজ ৭ মে, বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল আর এন রবি মন্ত্রিসভা ভেঙে দেন, যার ফলে ৭১ বছর বয়সী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রীর মেয়াদের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। ২০১১ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা এই নেত্রীর রাজনৈতিক অধ্যায়ের এমন নাটকীয় অবসান ঘটল। বর্তমানে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি) সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানান, নির্বাচন পরবর্তী এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রাজ্যজুড়ে অন্তত ২০০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় দলের সমর্থক রয়েছে। বিশেষ করে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সচিব চন্দ্রনাথ রথ আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপি একে তৃণমূলের ‘পরিকল্পিত গুপ্তহত্যা’ বলে দাবি করলেও তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা অভিযোগ করেছে যে বিজেপি সমর্থিত দুষ্কৃতিকারীরাই এই সহিংসতার জন্য দায়ী। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত দুই ধাপের নির্বাচনের পর থেকে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।



