অল ক্রাইমস. টিভি ডেস্ক
বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা খাতে সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের চেয়ে শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক বিনিময়ই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী আস্থা ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারে।
শুক্রবার রাজধানী ঢাকা-এ আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় যুদ্ধ, অস্থিরতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে বিশ্বব্যবস্থা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীন-এর মতো বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা জরুরি।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন-এর প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বহু বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং সময়ের সঙ্গে তা আরও গভীর হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বিশাল জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হলে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে চীনের শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য কার্যকর মডেল হতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিক্ষা বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে মানবসম্পদ উন্নয়নকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শেষে শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা, গবেষণা ও কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ভবিষ্যতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।



